বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কি দেউলিয়া হওয়ার পথে?

একটা সময় ছিল যখন সাধারণ মানুষের কাছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ছিল একমাত্র ভরসার জায়গা যেখানে নিশ্চিন্তে অর্থ জমিয়ে মূলধন সৃষ্টি করা যেত। বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাঝে এক ধরণের খাই খাই ভাব দেখা যাচ্ছে; যা অতীতে কখনোই ছিল না। ব্যাংকে ২০০০/-(দুই হাজার) টাকা জমা রেখে দু’বছর পর তা বৃদ্ধি না পেলেও্ অন্ততঃ জমানো টাকাটা ফেরৎ পাওয়ার একটা নিশ্চয়তা ছিল। আর এখন ২০০০/-(দুই হাজার) টাকা ব্যাংকে জমা রেখে দু’বছর পর একাউন্ট চেক করলে দেখা যাবে একাউন্টে ২/-(দুই) টাকাও নাই কেননা, প্রতি ৬ মাস পর পর নানা অজুহাতে টাকা কাটতে কাটতে পুরোটাই শূন্য হয়ে গেছে। কী আজব দেশরে বাবা!!! যে সকল হিসাবে নিয়মিত লেন-দেন হয় সে সকল হিসাবে একটা নির্দিষ্ট অংক খরচ বাবদ কাটবে সেটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু যে সকল হিসাবে ন্যূনতম ব্যালেন্স থাকে সেটা কেটে নিয়ে একাউন্টটি শূন্য করতে হবে, এটা কি কোন ব্যবসা; নাকি জুলুম? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, “এ জগতে হায়, সে বেশি চায় আছে যার ভূরি ভুরি/ রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি”।

একাউন্টে টাকা কম থাকলে খরচ কাটতে কাটতে একাউন্টটি শূন্য বানাতে হবে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এই নীতি কি এটাই প্রমাণ করে যে, ব্যাংকগুলো এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। নাকি ব্যাংকগুলোর নিকট সাধারণ গ্রাহকের প্রয়োজন শেষ হয়ে গেছে। তাই তারা যাদের হিসাবে টাকা কম থাকে সে হিসাবের জমা টাকা কাটতে কাটতে হিসাবটি শূন্য করে ফেলে যাতে গ্রাহক উক্ত হিসাবে লেন-দেন বন্ধ রাখতে কিংবা হিসাবটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

চলতি হিসাবে টাকা কর্তন করে সেটা নাহয় ব্যবসায়িক হিসাব তাই মেনে নেয়া যায়। কিন্তু সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা কর্তন করে হিসাবটি শূন্য করে দিলে ব্যাংকে সঞ্চয় করার সুযোগ থাকলো কোথায়? যে ব্যক্তি অনেক কষ্টে মাসিক খরচ থেকে বাঁচিয়ে ২০০/-(দুইশত) টাকা জমানোর কথা ভাবে তার জন্য ব্যাংকে হিসাব খুলে টাকা জমা রাখা আর বাঘকে ছাগল পহারা দেয়ার দায়িত্ব দেয়া দু’টোই সমান কথা।

আমি জানিনা, আবার কোনদিন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো জনগণের বন্ধু হিসেবে জনমানুষের আস্থাভাজন হবে কি না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, “তৃণমূলের মানুষগুলোকে বাদ দিয়ে একটি দেশ কখনোই উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারে না। তাই অনতিবিলম্বে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এই হঠকারীতামূলক কার্যক্রম বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।” যে সকল সঞ্চয়ী হিসেবে ৩০ জুন এবং ৩১ ডিসেম্বর তারিখে ৫,০০০/-(পাঁচ হাজার) টাকা বা তার কম জমা থাকে সে সকল হিসাবের বিপরীতে ষান্মাসিক চার্জ কর্তন করাটা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং অন্যায় বলেই আমার কাছে প্রতীয়মান হয়। ষান্মাসিক চার্জ কর্তনের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যদি ন্যূনতম ব্যালেন্স এর সীমারেখা নির্ধারণ না করে তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে এ ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

No Comments

    Leave a reply